Home জাতীয় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নিয়ে জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নিয়ে জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়ে আলোচনা করতে জরুরি সভা ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ।

শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি লিখেছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএস শুল্ক সমস্যা নিয়ে এক জরুরি সভা ডেকেছেন। সভায় শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ এখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে সমস্ত পণ্যে রপ্তানি হয়, তার উপর ৩৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা।

বাংলাদেশ থেকে একাধিক পণ্যে মার্কিন মুলুকে যায়। সেই সমস্ত পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য হলে আমেরিকার বাজারে সেই সমস্ত জিনিসের দাম বাড়বে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮৪০ কোটি ডলারের মতো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়ে থাকে যার বেশিরভাগ তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৭৩৪ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান ৫টি রপ্তানি পণ্য: বোনা পুরুষদের স্যুট: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ১.৯ বিলিয়ন ডলার। বোনা মহিলাদের স্যুট: একই বছরে এই পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ১.০৯ বিলিয়ন ডলার। বোনা পুরুষদের শার্ট: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ৭০৫ মিলিয়ন ডলার। বোনা পোশাক: ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৩০% ছিল বোনা পোশাক, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। বোনা টেক্সটাইল পণ্য: বাংলাদেশের রপ্তানির একটি অংশ বিভিন্ন টেক্সটাইল পণ্য নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। এই পণ্যগুলোর মধ্যে প্রধানত তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই প্রভাব পড়বে আমেরিকার অর্থনীতিতে চাহিদা কমার কারণে। ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপরে যেসব কারণে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, সেগুলো দূর করে এ শুল্ক কমিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে পারলে নেতিবাচক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।