Home স্বাস্থ্য এই শীতে একটু যত্ন, নিয়ন্ত্রণে রাখবে গেঁটে বাত

এই শীতে একটু যত্ন, নিয়ন্ত্রণে রাখবে গেঁটে বাত

কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রাহুল গ্রোভার

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক

কারোর পৌষমাস, কারোর সর্বনাশ কথাটা এই মরশুমে সব থেকে বেশি খাটে বাতের অসুখে ভোগা রোগীদের জন্য। পৌষের হিমেল হাওয়া আর নলেন গুড়ের মিষ্টি সকলের জন্য সুখের হলেও, এই পৌষই কাঁদিয়ে ছাড়ে বাতের অসুখে ভোগা রোগীদের। কমবেশি সব পরিবারেই গড়ে অন্তত একজন সদস্যকে পাওয়া যায়, যারা বাতের সমস্যায় ভুগছেন। শীতের বাতাস বইতে শুরু করলে তাদের ভোগান্তিও বাড়তে থাকে। ওষুধের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ছোট ছোট পদক্ষেপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে শীতকালীন ব্যথা। হাড়ের জয়েন্টের প্রদাহ বাড়লে বাতের ব্যথাও বাড়ে। অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রাহুল গ্রোভারের মতে, ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপিলারি গুলি সরু ও শক্ত হয়। যার ফলে জয়েন্ট ফুলে যায় ও ব্যথা শুরু হয়। অত্যাধিক ঠান্ডা হাতে ও পায়ে রক্ত প্রবাহ হ্রাস করে। এছাড়া সূর্যালোক কম থাকায় শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হয়। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা। ডঃ রাহুল গ্রোভারের মতে, বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ এই শীতে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে বাতের যন্ত্রণা। যেমন,

১। শরীর গরম রাখতে পারলে বাতের ব্যথা কমে। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোই ভালো। উলের পোশাক পরলে শরীর গরম থাকে। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বেরোতে হলে গরম পাজামা ও ভালো মানের ইন্সুলেটেড হ্যান্ড গ্লোভস পরলে ব্যথার প্রবণতা কমে। বাড়ি ফিরে স্নান করতে হলে গরম জলে স্নান করা ভালো।

২। শীতে অলস হয়ে বিছানায় বসে থাকতে ইচ্ছা করলেও সেটা বাতের রোগীদের জন্য বেশ বিপজ্জনক। বাতের সমস্যা থাকলে শরীর চর্চা করা ভীষণ জরুরী। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, যোগ ব্যায়াম, ট্রেড মিলে হাঁটা সহ বিভিন্ন ধরণের শরীর চর্চা করা যেতে পারে। তবে সবটাই বাড়িতে থেকে করলেই ভালো।

৩। কমপ্রেশন গিয়ার জাতীয় পোশাক বাতের ব্যথা কমাতে পারে। যে পোশাক শরীরকে শক্ত করে ধরে রাখে তাদেরকে কমপ্রেশন গিয়ার বলা হয়। এটা প্রমাণিত যে, ওই পোশাকগুলি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, শরীরকে গরম রাখে ও বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৪। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার ( যেমন বড় মাছ, আমন্ড, আখরোট, কাজুবাদাম) ও পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। প্রতিদিন বেশ খানিকটা সময় রোদে বসা খুব দরকার। মাছের তেল ও ভিটামিন ডি ট্যাবলেটও খাওয়া যেতে পারে। তবে ওষুধ খেতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৫। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন বাড়লে হাঁটু সহ অন্যান্য জয়েন্টে বেশি চাপ পড়ে। চাপ বাড়লে ব্যথা বাড়বে। তাই ওজন কমানো খুব দরকার।

এই সবকিছুর পাশাপাশি ব্যথা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।