শাকেরনেজাদকে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্বারী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, বিশেষ করে ইউটিউবে।
হামেদ শাকেরনেজাদ হলেন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ইরানি ক্বারীদের একজন যিনি আজকাল প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছেন, বিশেষ করে ইরানি টেলিভিশনে প্রযোজিত এবং সম্প্রচারিত আন্তর্জাতিক কুরআন অনুষ্ঠান “মেহফিল” এর মাধ্যমে। পার্সটুডে-র এই প্রবন্ধে তার জীবনের দিকে সংক্ষিপ্ত নজর দেওয়া যাক:
হামেদ শাকরেনজাদ একজন বিশিষ্ট ইরানি ক্বারী বা কুরআনের আবৃত্তিকার। তিনি ১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল খোরাসানে রাজাভি প্রদেশের (ইরানের উত্তর-পূর্বে) মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। হামেদ ৫ বছর বয়সে কুরআনের আসরে প্রবেশ করেন এবং মাহমুদ ফুরকানি, জাভেদ এবং মোজতাবা সাদাত ফাতেমির তত্ত্বাবধানে তিনি কুরআন তেলাওয়াত এবং কুরআন বিষয়ক অনুষ্ঠানমালা ও কার্যকলাপ অনুকরণ করতে শুরু করেন।

হামেদ শাকেরনেজাদের বড় ভাই হামেদ শাকেরনেজাদও একজন আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াতকারী।

কুরআনি জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা
১৩৭৪ সাল ছিল শাকেরনেজাদের কুরআনি জীবনের এক সন্ধিক্ষণ। এ বছর তিনি মাশহাদের ছাত্র পর্যায়ে অনুষ্ঠিত তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে প্রাদেশিক এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই সাফল্যগুলো এনডাউমেন্ট অ্যান্ড চ্যারিটি অর্গানাইজেশনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। সেখানে তিনি মাশহাদ শহর, খোরাসান রাজাভি প্রদেশ এবং সমগ্র দেশ পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

বিশ্ব সেরা
শাকরনেজাদের সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্মান ছিল সৌদি আরব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৭৫টি দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করা। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায়, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য তেলাওয়াতের দক্ষতার পাশাপাশি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ থাকা প্রয়োজন, শাকেরনেজাদ বিচারকদের মুখস্থ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এবং একটি অনন্য তেলাওয়াত উপস্থাপন করে চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব অর্জন করতে সক্ষম হন। এই বিজয়ের প্রতিদান ছিল কাবা শরীফে এক ঘন্টার সফর, যা তার মতে, তার কুরআন জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

বিশেষ পোশাক
হামেদ শাকেরনেজাদ কুরআন তেলাওয়াত করার সময় কাঁধে শাল পরেন; তিনি বিশ্বাস করেন যে তেলাওয়াতকারীর পোশাক অন্যদের সাধারণ পোশাকের মতো হওয়া উচিত নয় এবং একজন তেলাওয়াতকারীর পোশাক তার সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হওয়া উচিত এবং এমন হওয়া উচিত যাতে শ্রোতারা তাকে সম্মান করে এবং কুরআনের অর্থের সাথে আরও ভাল সংযোগ স্থাপন করে।
তিলাওয়াতের ধরণ
শাকরেনজাদ কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে মুস্তাফা ইসমায়িলের (একজন মিশরীয় ক্বারী) ধরণ অনুসরণ করেন। তিনি কুরআন তেলাওয়াতের বিভিন্ন পদ্ধতির সাথে পরিচিত এবং তার আনুষ্ঠানিক তেলাওয়াতে, তিনি বিভিন্ন স্টাইলে কুরআন তেলাওয়াত করেন। কুরআন তেলাওয়াতে একটি নতুন স্টাইল তৈরি করার পর, ওই স্টাইলটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অনুমোদন করার পর এখন অনেক ইরানি, অ-ইরানি যুবক ও কিশোররা তা অনুসরণ করছেন।

কুরআনি কূটনীতি
শাকরেনজাদ কুরআনি কূটনীতির ক্ষেত্রেও সক্রিয়। কুরআন প্রচারের জন্য ইউরোপীয়, এশীয় এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে তাঁর অসংখ্য ভ্রমণ কুরআন সংস্কৃতির প্রচার প্রসারে তাঁর কার্যকর ভূমিকার প্রমাণ দেয়। লেবাননে তার উপস্থিতি এবং প্রতিরোধ নেতা শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর জানাজায় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কুরআনের কূটনীতির প্রভাবের একটি উদাহরণ। তিনি কুরআন প্রচার ও তেলাওয়াতের জন্য তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, লেবানন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।

ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার কুরআনি অনুষ্ঠান মেহফিলে শাকেরনেজাদ
ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার কুরআনি অনুষ্ঠান মেহফিলে শাকিরনেজাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। একাডেমিক জ্ঞান, শিল্পসম্মত তেলাওয়াত এবং তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ের মাধ্যমে, তিনি কুরআনের প্রতি আগ্রহী তরুণদের জন্য একজন সফল রোল মডেলে পরিনত হয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে আজকের সমাজের চাহিদা ও রুচির সাথে সঙ্গতি রেখে কুরআনের পথকে গতিশীল এবং আকর্ষণীয় করা যেতে পারে।

শাকরনেজাদের জীবন
হামেদ শাকেরনেজাদের বিয়ে হয় ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে। তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কুরআন প্রশিক্ষক। শাকেরনেজাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

সূত্র: পার্সটুডে