
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রংপুর: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এই দলটির পুনর্বাসনকে মেনে নেবো না। এমন কি নাগরিক পার্টির কোনো প্রোগ্রামে কোনোভাবেই যদি দলটির কেউ যুক্ত হবার মতো সাহসও দেখায়, আমরা তাদেরকে প্রতিহত করব। তাদেরকে (অনুপ্রবেশকারীদেরকে) আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা মনে করি যারা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার রাখেন না।
শুক্রবার রাতে রংপুর চেম্বার ভবনে এনসিপি’র সংগঠকদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র সংগঠন। জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যে কার্যক্রম আছে সেগুলো পরিচালনা করবে। একটি পলিটিক্যাল প্লাটফর্ম এবং সিভিল সোসাইটির প্লাটফর্ম হিসেবে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা আছে তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে।
ব্যাংককে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক প্রসঙ্গে এনসপি’র সদস্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার কথাগুলো প্রধান উপদেষ্টা ধরেছেন। বাংলাদেশ এবং ভারতের যে সম্পর্ক সেটা যেন কোনো দলের সাথে কোনো দেশের সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত না হয়। অবশ্যই তিস্তা-গঙ্গা-সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়।
এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে কথা বলেন এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো: সারজিস আলম।
তিনি বলেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর দেখার আকাঙ্ক্ষা আমার আছে এবং আজীবন থাকবে। আমি জানি না বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত সরকারের ততোটা উদারতা থাকবে কিনা যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো যোগ্যতা সম্পন্ন একজন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় বসানো। কারণ এই মুহুর্তে আমার মনে হয়েছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগ্যতা, দক্ষতা, কমিউনিকেশন, লিঁয়াজো সবদিক থেকে উনার মতো দক্ষ এবং যোগ্য মানুষ আমার চোখে আর পড়ছে না।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের কাছে যেতে চাই। সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে চাই। আজ থেকে সেই সাংগঠনিক সফর শুরু হয়েছে। এই সফরের মধ্যদিয়ে মাঠে-ঘাটে অলিগলিতে মানুষের কাছে যেতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা তুলে ধরতে চাই। আমরা জনগণের কাছে জানতে চাই, তারা কী চায়। জনগণের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে, তাদের ভোটের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাই আমাদের লক্ষ্য।’
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে মাত্র এক মাসের দল এনসিপি। তাই সারা দেশে প্রার্থী মনোনয়নে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। যারা নতুন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, তরুণদের নেতৃত্ব যারা পছন্দ করে, যারা সৎ, যোগ্য এমন মানুষকেই আমরা মনোনয়ন দিতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে ঈদ-পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ থেকে। আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
সারজিস আলম বলেন, প্রতিটি জেলা উপজেলায় আমাদের দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এক মাসের মধ্যেই শুরু হবে। আমাদের সারা দেশে অনেক সমর্থক রয়েছে। শুভাকাকাঙ্খী রয়েছে। আমরা ২৪-এর স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
এর আগে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কেরামতিয়া মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় এনসিপির অন্যান্য নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।