বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মিরসরাই ( চট্টগ্রাম): বুধবার দুপুরে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে এ বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক পথচারী। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। নিহত ব্যক্তির নাম জাবেদ আরএফএল গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি। বায়েজিদ থানার বাংলাবাজারের নীলগিরি আবাসিক এলাকার জাহাঙ্গীর ও জাহিদা বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলা, মিরসরাই পৌরসভা শাখা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা শাখার আহবায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরে বিএনপির দুই পক্ষে উত্তেজনা চলছিল। এই কারণে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কর্মসূচি পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দেয় বিএনপির দুই গ্রুপ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর ও তার আশপাশের ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নামে বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বুধবার সকালে বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মাঈন উদ্দিন লিটনের বাড়ির সামনে আমাদের নেতাকর্মীদের পথ অবরুদ্ধ করে হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বেলা ১২টায় আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল সহকারে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে প্রবেশ করলে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন আমাদের উপর স্বশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় জাবেদ নামে একজন পথচারী তাদের হামলায় ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।
বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, বুধবার সকাল ১১টায় পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মাঈন উদ্দিন লিটনের বাড়ির সামনে বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেনেরসহ আমাদের নেতাকর্মীদের উপর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী ও মাঈন উদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে হামলা হয়। এরপর বারইয়ারহাট ডিগ্রী কলেজের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করার জন্য আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে শান্তিরহাট রোডে অবস্থান করছিলাম।সেখানেও তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা জেরিন বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর ও তার আশপাশের ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার বেলা ১২টায় বিএনপির একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে প্রবেশ করেছে। মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজিয়া আফরিন বলেন, মো. জাবেদ নামে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। তার পেটে চুরিকাঘাত করা হয়েছে। এসময় ১০-১২ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন, সুমন (৩৫) ফজলুল করিম (৪৩), জাহেদুল ইসলাম (৪২), শহিদুল ইসলাম (৫১), ওমর ফারুক (৩৫), দিদার (৩৭), আবু সুফিয়ান (৪০), ফাহিম (২২), এরশাদ (৪০), গোলাম মোর্শেদ (৪০), রাশেদ (৫০), দিদারুল আলম চৌধুরী (৪০), ইলয়াস (৫০)। তাদের মধ্যে সুমন, গোলাম মোর্শেদ, ইলিয়াস হোসেন ও রাশেদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বারইয়ারহাট পৌরবাজারে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় মো. জাবেদ নামে একজন পথচারী নিহত হয়েছেন। আহত হন আরো ৮-১০ জন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।