বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মিয়ানমারে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সেই দেশে প্রায় ৬০টি মসজিদ ভেঙে পড়েছে এই ভূমিকম্পের জেরে। রমযান মাসের শেষ শুক্রবার অর্থাৎ জুমাতুল বিদার দিনে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তখন জুমার নামায আদায়ে মসজিদে ছিলেন বেশিরভাগ মুসল্লি। এই ভূমিকম্পে অন্ততপক্ষে ৭০০ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের তথ্যানুসারে, মান্দালয়, সাগাইং, নেপিদো, পাইনমানা, পিয়াবওয়ে, ইয়ামেথিন, থাজি, মেইকটিলা, কিয়াউকসে এবং পালেইক শহরে মসজিদগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার সেই ভাঙা মসজিদের সামনেই ইদের নামাযের জন্য জড়ো হন শয়ে শয়ে মানুষ।
এক শতাব্দীর বেশি সময়ে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশে আঘাত হানা এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। শুক্রবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাগাইং অঞ্চল। উৎপত্তিস্থলের কাছেই মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের অবস্থান।
মায়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে ভূমিকম্পের ঘটনায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সামরিক বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং ভূমিকম্পের পরও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে বেঁচে যাওয়া মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও আশ্রয় প্রয়োজন।