Home First Lead আমদানি বন্ধ ও ন্যায্য দরের দাবিতে লবণ উৎপাদকদের বিক্ষোভ

আমদানি বন্ধ ও ন্যায্য দরের দাবিতে লবণ উৎপাদকদের বিক্ষোভ

লবণ উৎপাদকদের বিক্ষোভ।

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: রাস্তার ওপর লবণ ঢেলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে কক্সবাজার লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদ।

আমদানি বন্ধ করা ও লবণের ন্যায্য দরপ্রাপ্তির দাবিতে আজ বুধবার এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মহাসড়কে লবণ ফেলে বিক্ষোভ করায় উভয় দিকে আটকা পড়ে পর্যটক, যাত্রী ও পণ্যবাহী হাজারো যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কক্সবাজার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, ‘বিগত মৌসুমেও দেশে উৎপাদিত প্রতি বস্তা লবণের মূল্য পাওয়া যেত ১২শ থেকে ১৬শ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এবার প্রতিমণের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং শিল্প খাতে ব্যবহারের দোহায় দিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করছে মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট। এতে দেশীয় উৎপাদিত লবণের দাম একেবারে নেমে গেছে। এই অবস্থায় বিদেশ থেকে আরো বিপুল পরিমাণ লবণ আমদানির পাঁয়তারা করায় ধ্বংস হওয়ার পথে দেশীয় লবণশিল্প। তাই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টার প্রতি আমাদের আকুতি, দেশীয় লবণশিল্পকে বাঁচাতে হলে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।’

লবণ উৎপাদকরা জানান, এবারে প্রতিমণ লবণ তৈরিতে খরচ পড়ছে ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। মাঠ পর্যায়ে সেই লবণ বেচতে হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা দরে। অর্থাৎ লবণ তৈরি করে বিশাল লোকসানের মুখে উৎপাদকরা। লবণ শোধনাগার মালিকদের সিন্ডিকেট এবং আমদানির কারণে ব্যাপক দর পতন হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে আগামী মওসুমে উৎপাদনবিমুখ হয়ে পড়বেন তারা। তাতে আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হবে মানুষ ও পশুখাদ্য এবং শিল্প-কারখানার জন্য।

গত মওসুমে উৎপাদিত লবণ চাহিদা মিটিয়ে আরও ২ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত ছিল। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় দেদার লবণ তৈরি হচ্ছে। লবণ তৈরির আওতাধীন জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮ হাজার একর। দেশীয় লবণ শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত ৬৫ হাজার মানুষ। আর পরোক্ষভাবে ১০ লাখ সংশ্লিষ্ট লবণ শিল্পের সাথে।