চা বাগানের পানি পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
বেআনিভাবে দিক পরিবর্তন করে বারোমাসিয়া সেচ প্রকল্প থেকে মিনিটে প্রায় ১,২০০ লিটার পানি উত্তোলন করেছে হালদা ভ্যালি। এভাবে একচেটিয়া পানি উত্তোলন করে প্রায় ৫০০ একর বোরো ফসলের ক্ষতি করেছে হালদা ভ্যালি চা-বাগান কর্তৃপক্ষ।
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা-ভ্যালি চা বাগানের পানি পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৈআইনিভাবে বারোমাসিয়া খালের গতি পরিবর্তন করে হালদা নদীর পানি উত্তোলনের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে শুক্রবার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, ভুজপুর থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ, সেচ প্রকল্পের উপকার ভোগী কৃষকগণও উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও জানান, দিক পরিবর্তন করে বারোমাসিয়া সেচ প্রকল্প থেকে পাম্প দিয়ে মিনিটে প্রায় ১,২০০ লিটার পানি উত্তোলন করেছে হালদা ভ্যালি। এভাবে প্রায় ৫০০ একর ইরি-বোরো ফসলের ক্ষতি করছে হালদা ভ্যালি চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। সরজমিনে

হালদা ভ্যালি চা-বাগানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চারটি পয়েন্টে খালের উজানে পানির ডাইভারশন বন্ধ করা হয় এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পানির পাম্পের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ভবিষ্যতে এভাবে একতরফা পানি উত্তোলন করা হলে হালদা ভ্যালি চা-বাগানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসিয়ে একতরফা পানি উত্তোলন বন্ধ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেয়া হয়েছিল। তাতে কোন সাড়া দেয়নি। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষের এভাবে একতরফা পানি উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বন্ধ করতে ১১ মার্চ তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তা না মানলে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধার্থে ১৯৮০ সালে ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট ইদিলপুর এলাকায় একটি মাঝারি ধরনের স্লুইসগেট স্থাপন করে সরকার। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এটি ব্যবহার করে শত শত কৃষক বোরো মওসুমে ধান আবাদ করেন। কিন্তু প্রতিবছরই চা-বাগান কর্তৃপক্ষউচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প দিয়ে একচেটিয়া পানি টেনে নিয়ে যায়। আর এতে বিস্তীর্ণ এলাকার ইরি চাষ ব্যাহত হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর ওই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বন বিভাগ, চা বোর্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বাগানের অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে হালদা ভ্যালির বিরুদ্ধে।